বাংলাদেশ: শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৪ মহর্‌রম ১৪৪৪ হিজরি

  বাংলাদেশ: শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৪ মহর্‌রম ১৪৪৪ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৭:০৫ পিএম

আরামের ঘুম কেন প্রয়োজন?

 ফারিয়া ইসলাম বৃষ্টি: ঘুম কি আসলেই আমাদের জন্য খুব জরুরি? ৭-৮ ঘণ্টার কম ঘুমালে কি কোনো সমস্যা হবে? এতে কি কোনো শারীরিক সমস্যা হতে পারে?

আপনি যদি নিজেকে সুস্থ রাখতে চান তবে ব্যলেন্স ডায়েট, শারীরিক ব্যয়াম যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনই প্রয়োজন ঘুমের। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার বেশি ঘুমানো উচিত। আসুন জেনে নেই ঘুম আমাদের জন্য কেন এত দরকার?

কম ঘুম ওজন বাড়ায়
মেজর কিছু রিসার্চে দেখা গেছে প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে বাচ্চা এবং বড় সবার ক্ষেত্রেই ওজন বৃদ্ধি পায়। এর একটি মূল কারণ হচ্ছে- ঘুম কম হলে আমাদের এপিটাইট বা ক্ষুধা লাগার প্রবণতা বেড়ে যায়। আমাদের ২ ধরনের হাঙ্গার হরমোন আছে।

ঘেরলিন এমন একটি হরমোন যা পাকস্থলীতে রিলিজ হয় এবং মস্তিস্কে ক্ষুধা লাগার বার্তা পাঠায়। তখন আমাদের মস্তিস্ক আমাদেরকে খাবার খেতে বলে।

আর লেপ্টিন নামক হরমোন আমাদের ক্ষুধাভাব কমিয়ে আনে। ঘুম যখন কম হয় তখন আমাদের দেহে ঘেরলিন হরমোন বেড়ে যায় এবং লেপ্টিনের পরিমাণ কমতে থাকে। ফলে আমরা অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করে ফেলি যা ওজন বাড়াতে পারে।

হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায়
হৃদরোগের একটি মূল কারণ হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ। Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এর মতে প্রতিদিন রাতে পরিমিত ঘুম রক্তচাপ ঠিক রাখতে সহায়তা করে। ঘুম কম হলে আমাদের দেহ স্ট্রেস হরমোন করটিসোল-এর নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয় যা হার্টের উপর প্রেসার ফেলে।

ডিপ্রেশন কমাতে সাহয্য করে
মানসিক স্বাস্থ্যর সাথে ঘুমের সম্পর্ক নিয়ে অনেকগুলো গবেষণা রয়েছে। দেখা গেছে যারা ডিপ্রেশনে ভুগছেন তাদের অনেকেই পর্যাপ্ত এবং কোয়ালিটিফুল ঘুমের অভাবের কথা বলে থাকেন। এছাড়াও যারা ইনসোমেনিক তাদের মধ্যে অনেকেই ডিপ্রেশন এ ভুগতে দেখা গিয়েছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম আমাদের দেহে ইনফেকশন কিলার সেলগুলোকে বৃদ্ধি করে। ঘুম কম হলে এই ইনফেকশনের সাথে ফাইট করা এন্টিবডিগুলোর পরিমাণ কমতে থাকে। ঘুমের সময় আমাদের দেহ সাইটোকাইয়ানিন নামক প্রোটিন রিলিজ করে যা ইনফেকশন ও ইনফ্লেমেশন দূর করতে সাহায্য করে।

মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাউন্ড স্লিপ পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

মন ভালো রাখে
ঘুম কম হলে অনেক সময় দেখা যায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে বা অতিরিক্ত রাগ হয়। তাই ঘুমের সাথে মন ভালো থাকারও সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিদিন ৫ ঘণ্টার কম ঘুম হলে মনের উপর তা প্রভাব বিস্তার করে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, স্ট্রেস বেড়ে যাওয়া, অবসাদ্গ্রস্ত হয়ে যাওয়া এবং মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও ঘুম পরিপূর্ণ হলে কাজে স্পৃহা আসে, কাজ করার ক্ষমতা বেড়ে যায়। তাই সবার পরিপূর্ণ ঘুম প্রয়োজন।

লেখক:
পুষ্টিবিদ, আন্তর্জাতিক ফেলো (নরেক-নরওয়ে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *