বাংলাদেশ: শুক্রবার ১৪ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
৩০ পৌষ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শুক্রবার ১৪ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩০ পৌষ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৬:৩৯ পিএম

ইলিশে সয়লাব কক্সবাজার ফিশারিঘাট: ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

5 / 100


নুরুল আমিন হলাল, কক্সবাজার:
টানা তিন মাসপর জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়িদের পদচারণায় মুখরিত কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। কারণ টানা পঁয়ষট্টিদিন সাগরে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা সাগরে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকায়বঙ্গোপসাগরে চলছে ইলিশ মাছ ধরার মহোসব। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জেলেদের জালে ধরা পড়ছে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ। ফিশিং ট্রলার ভর্তি করে ইলিশ নিয়ে হাসিমুখে কূলে ফিরছেন জেলেরা। সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় আড়ৎগুলোতে এখন কর্মচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।ইলিশের পাশাপাশি ধরা পড়ছে রূপচাঁদা, লইট্যাসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। তবে দাম একটু বেশি। বর্তমানে ১০০ ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার। দুই কেজির কাছাকাছি ওজনের একটি ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
রোববার (১৫ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে উৎসবের আমেজ। টানা তিন মাস পর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। বৈরী আবহাওয়া ও ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গেলেও ইলিশের দেখা পাচ্ছিলেন না জেলেরা। এতে হতাশা ও আর্থিক সংকটে ছিলেন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গত কয়েক দিনে পাল্টে গেছে চিত্র। সাগর থেকে মণ মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছে শত শত ফিশিং ট্রলার। ঘাট থেকে ডিঙি নৌকায় ঝুড়ি নিয়ে মোকামে তোলা হচ্ছে ছোট-বড় ইলিশ। ব্যবসায়ীদের হাকডাক ও বেচাকেনায় সরগরম হয়ে উঠে ফিশারি ঘাট নামে পরিচিত এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এখানে কারো যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। অনেক ব্যবসায়ী ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন ইলিশের চালান।ফিশিং ট্রলারের জেলে আব্দু রহমান, জকরিয়াসহ কয়েকজন জানান, অনেক দিন মাছ শিকার বন্ধ থাকায় অনেক কষ্টে দিন গেছে। তার ওপর করোনার প্রাদুর্ভাব ছিল। সব মিলিয়ে অনেক দুঃখ-কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। এবার সাগরে প্রচুর পরিমাণ মাছ ধরা পড়ায় হয়তো সেই দুঃখ-কষ্ট ঘুচবে।কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানে আলম বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া ও ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত এক সপ্তাহে শত শত ফিশিং ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে গেছে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ ইলিশ নিয়ে ফিরছে ট্রলারগুলো। নিষেধাজ্ঞাকালে যে ক্ষতি হয়েছে, আশা করি, তা পুষিয়ে নিয়ে লাভের মুখ দেখবেন ব্যবসায়ী ও ফিশিং ট্রলারের মালিকরা।’
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ম্যানেজার মো. এহসানুল হক বলেন, ‘মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ট্রলারগুলো ফিরতে শুরু করায় মাছের পরিমাণ ও রাজস্ব বাড়ছে।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম খালেকুজ্জামান বলেছেন, ‘গত বছর কক্সবাজারে ইলিশ আহরণ হয়েছিল ১৫ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন। এবার ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মেট্রিক টন। গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ ছিল। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *