বাংলাদেশ: রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
৯ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৬:৩৫ পিএম

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: ৫১৮ গ্রামের তিনলাখ মানুষ পানিবন্দী

5 / 100

এইনগরে প্রতিবেদন, কক্সবাজার: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপে টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও সামুদ্রিক জোয়ারে কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলার ৫১৮ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের বাড়ি-ঘর,রাস্তা-ঘাট,দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে এসব এলাকার অন্তত তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত পাহাড় ধস ও ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন নিঁখোজ রয়েছেন । বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় ৮ হাজার সেচ্চাসেবক মাঠে কাজ করছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। জেলার সদর,টেকনাফ,উখিয়া,ঈদগাঁও,চকরিয়া,পেকুয়া,মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক ঢলের পানিতে ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।সামুদ্রিক জোয়ার ও ঢলের তোড়ে এসব এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্যে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান ও জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ গত দুইদিন ধরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা সরেজমিন পরিদর্শন করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম ও সাইমুম সরওয়ার কমল বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে ত্রাণ কার্যক্রম ও রান্না করা খাদ্য সরবরাহ করছেন। জনপ্রতিনিধিরা জানান, পানিবন্দী মানুষ কষ্টে রয়েছে। তাঁদের পর্যাপ্ত ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।বেশিরভাগ বাড়িতে পানি উঠায় যাঁদের ত্রাণ প্রয়োজন নেই,তাঁদেরও রান্না করা ও শুকনো খাবার ও পানীয় জলের দরকার হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলার নয় উপজেলার ৭১ ইউনিয়নের মধ্যে ৫১ ইউনিয়নের ৫১৮ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের ৭৬ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮ হাজার ৫৬৫ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের রান্না করা ও শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও সামুদ্রিক জোয়ারে জেলার নয় উপজেলার অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে রয়েছে। কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। জেলার মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রহমান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বলবৎ রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় এ পর্যন্ত ২০০ মেট্রিক টন চাল,নগদ ১৫ লাখ টাকা ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *