বাংলাদেশ: রবিবার ২৬ জুন ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৬ জিলকদ ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ২৬ জুন ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৬ জিলকদ ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৭:০৫ পিএম

কক্সবাজারে সন্তানসহ কেন ওই নারী: র‌্যাব

8 / 100

এইনগরে কক্সবাজার: শিশুসন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে কক্সবাজারে যান স্বামী-স্ত্রী। আট মাস বয়সী শিশুর হার্টের সমস্যা। তােই তিন মাস ধরে সেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা চাইছিলেন। এই দম্পতির কাছেই ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় আশিকুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা। চাঁদা না পেয়ে গত বুধবার লাবনী সৈকত এলাকার রাস্তা থেকে ওই নারীকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান তাঁরা। একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে ও কলাতলী জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে তাঁকে দুই দফা ধর্ষণ করেন তাঁরা।

গতকাল সোমবার কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এমন তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলাম আশিককে মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি র‌্যাবকে এসব তথ্য দিয়েছেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ওই নারীর স্বামীর করা মামলায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশসহ ছায়া তদন্ত করছিল র‌্যাব। ওই নারী আশিক বা তাঁর সহযোগীদের পূর্বপরিচিত ছিলেন না। ঘটনার এক দিন আগে সৈকতে তাঁদের পরিচয় হয়। সে সময় ওই নারী শিশুসন্তানের চিকিৎসার জন্য পর্যটকদের কাছে অর্থ সহায়তা চাইছিলেন।

র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, বিভিন্ন সূত্রে তাঁরা জেনেছেন, ভুক্তভোগী নারী স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজারের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। শিশুটির জন্মগতভাবে হার্টে ছিদ্র। তার চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। শিশুটির চিকিৎসার অর্থ জোগাড়ের আশায় স্বামীসহ কক্সবাজারে অবস্থান করছিল পরিবারটি। এ সময় তিনি অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হন।

ওই নারীকে জিম্মি করতে সহযোগিতার অভিযোগে ২৩ ডিসেম্বর জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে কক্সবাজারে মামলার আরো তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

কমান্ডার মঈন বলেন, আশিক কক্সবাজারে পর্যটন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা। এই চক্রে ৩০-৩৫ জন রয়েছে। আশিক ২০১২ সাল থেকে পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। পর্যটন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, জিম্মি, চাঁদাবাজি, জবরদখল, ডাকাতি ও মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আশিক। প্রথম ২০১৪ সালে তিনি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন।

ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হলে আশিক আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি গোঁফ ও দাড়ি কেটে বেশভূষা পরিবর্তন করে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসেন। পরে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পথে মাদারীপুরে গ্রেপ্তার হন। আশিকের নামে কক্সবাজার সদর থানায় অস্ত্র, মাদক, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে। তিনি এরই মধ্যে পাঁচবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।

যা বলছেন ওই নারীর স্বামী

গত রাতে ওই নারীর স্বামী বলেন, নানা চাপে তাঁর স্ত্রীকে উল্টাপাল্টা বক্তব্যসহ কক্সবাজার আদালতে জবানবন্দি দিতে হয়েছে। তাঁরা তিন মাস ধরে কক্সবাজারে আছেন স্বীকার করে তিনি বলেন, কেন তাঁরা সেখানে অবস্থান করছেন, প্রমাণসহ তা জানাবেন। এ জন্য আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) সংবাদ সম্মেলন করবেন।

তিন আসামি দুই দিনের রিমান্ডে

এদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন হাওলাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার তিন আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল বশরের ছেলে রেজাউল করিম (৩০), মৃত সালেহ আহমদের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫) ও চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুরুনিয়া গ্রামের মোকতার আহমদের ছেলে মামুনুর রশীদ (২৮)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *