বাংলাদেশ: সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১০ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১০ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৬:৩৫ পিএম

কক্সবাজার জেলা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

8 / 100

এইনগরে প্রতিবেদন, কক্সবাজার: কক্সবাজারে প্রবল বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন নদী ও শাখা নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে একাধিক বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট।

জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ ইতোমধ্যে উপজেলার সব নির্বাহী অফিসারদের পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ও নিম্নাঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে  সরিয়ে এনে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

ঈদগাঁও উপজেলার নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ঈদগাঁও ইউনিয়েনের উত্তর মাইজ পাড়া, মধ্যম মাইজ পাড়া, দক্ষিণ মাইজ পাড়ার ঝাইক্কা কাটা বিশাল এলাকা জুড়ে বিলের পানি লোকালয়ে ঢুকে ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

ইউনিয়ের পাল পাড়া, ভোমরিয়োঘোনা, জালালাবাদের মনজুর মৌলভীর দোকান সংলগ্ন পয়েন্ট, মিয়াজীপাড়া পয়েন্ট, ছাতিপাড়া পয়েন্ট, ওয়াহেদের পাড়া, ঈদগাঁও হাইস্কুল পয়েন্ট থেকে ঈদগাঁও নদীর পানি প্রবেশ করে ঈদগাঁও বাজারের ডিসি সড়কসহ অলিগলিতে কোমরসমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি ঢুকে পড়েছে বাজারের কয়েক’শ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক অনাবাসিক এলাকায়।

শতশত একর আমনে ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্ধি হয়ে ক্ষয়ক্ষতিতে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ঈদগাঁও নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গার্লস স্কুল পয়েন্ট ও জালালাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ফরাজী পাড়া পয়েন্ট ফের নদী ভাঙ্গনের মুখে। দূর্যোগ শঙ্কায় ঈদগাঁও বাজার-ফরাজী পাড়া-পোকখালী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঈদগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম জানান, পরিষদ ভবনটি ৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চরম ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে ঈদগাঁও ইদগড় সড়কের কানিয়াছড়া পয়েন্ট। যেকোন মুহুর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ঈদগাঁওর সাথে ইদগড়ের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে তিন আশংকা প্রকাশ করেন।

কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা, টেকপাড়া, পেশকার পাড়া, সমিতি পাড়া, উপজেলা গেইট, রুমালিয়ার ছড়া, নুনিয়ারছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাটুসমান পানি। বাঁকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে উঠে আসায় নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে দোকানপাট ও বাসা বাড়িতে প্রবেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মহেশখালীর গোরকঘাটা হতে বদরখালী প্রধান  সড়কের শাপলাপুর এলাকায় পাহাড় ধ্বসে ঐ এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আজ ভোরে প্রবল বর্ষণে বসতঘরের দেয়াল চাপা পড়ে স্থানীয় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মনির ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে রহমত আলী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ও উত্তর ধুরং ইউয়িনের বেড়িবাঁধের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। প্রবল বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে উখিয়ায় ৪০ টি গ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *