বাংলাদেশ: শুক্রবার ১২ আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৩ মহর্‌রম ১৪৪৪ হিজরি

  বাংলাদেশ: শুক্রবার ১২ আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৩ মহর্‌রম ১৪৪৪ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৭:০৫ পিএম

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সেন্টমার্টিনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

এইনগরে প্রতিবেদন: ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সেন্টমার্টিনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপের চারিদিকে ভাঙন, ঘরবাড়ি ও গাছপালার উপড়ে গেছে।

এ পর্যন্ত ২৭ ঘরবাড়ি ও ট্রলার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত লোকজনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মানুষ আতঙ্কে থাকলেও নিরাপদে রয়েছে বলে জানায় উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (২৬ মে) পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। পানির উচ্চতা ৪ থেকে ৫ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ার কারণে দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে ভেঙেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু জায়গা। সেন্টমার্টিন প্রবেশের একমাত্র জেটিঘাট ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানিয়েছে দ্বীপে বিগত অর্ধশতাব্দি পর্যন্ত এমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

গেল ৩/৪ দিন ধরে পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে সাগরের পানি ও ঢেউয়ের আছড় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান স্থানীয় জসিম উদ্দিন শুভ।

তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে পানির উচ্চতা ও ঢেউয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাগরের তাণ্ডবে কবরস্থানের পশ্চিম দিকে ভেঙে গেছে। পূর্ব দিকেও ভেঙেছে। বেশ কিছু নারকেল গাছ উপড়ে গেছে। পুলিশ ফাঁড়ির দেয়াল ও প্রিন্স সেভেন নামের এক হোটেলের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় সেন্টমার্টিনের একমাত্র প্রবেশ পথ ভাঙন ধরেছে। পথের বিভিন্ন জায়গায় ঢালায় উঠে খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে। সেন্টমার্টিন রক্ষা করতে হলে চারপাশে বেড়িবাঁধ দিতে হবে বলে জানান এই পর্যটক ব্যবসায়ী ও সেন্টমার্টিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শুভ।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দ্বীপের চারিদিকে ব্যাপকভাবে ভেঙে গেছে। প্রায় দ্বীপের ১০টির বেশি অংশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমন ক্ষতি গত ৫০ বছরেও হয়নি। দ্বীপের দক্ষিণ পাশের একটি জামে মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে জেলেদের বেশ কিছু বোট/ট্রলার ঢেউয়ের আঘাতে নষ্ট হয়েছে। বিধ্বস্ত হয় বেশ কিছু বাড়ি ঘর।

তিনি জানান, মানুষ নিরাপদে বাড়িতে রয়েছেন। হোটেল-মোটেল প্রস্তুত রয়েছে। সংকেত বাড়লেই সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হতো।

এছাড়া টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হতে না হতেই ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কবলে পড়েছে। সাগরের জোয়ারের পানির তীব্র ধাক্কা পড়ছে ব্লকের। ইতোমধ্যে দ্বীপের পশ্চিম পাশের বেশ কিছু ব্লক সরে পড়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে পানির ধাক্কায় বেড়িবাঁধ যেকোনো সময় ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর। দ্বীপরক্ষার একমাত্র ভরসা এই বেড়িবাঁধ ধসে পড়লে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে সেখানকার হাজারো মানুষ। সেই সাথে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে শাহপরী দ্বীপের জালিয়াপাড়া প্রায় ২০টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ চৌধুরী জানান, সেন্টমার্টিনে বেশ কিছু অংশ ভেঙেছে। সেই সাথে শাহপরীর দ্বীপ ২০টি ও সেন্টমার্টিনে প্রায় ৭টি ঘর বিধ্বস্ত হয়। পাশাপাশি মাছ শিকারের ট্রলারও ভেঙে যায়। সব কিছুর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *