বাংলাদেশ: শুক্রবার ১২ আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৩ মহর্‌রম ১৪৪৪ হিজরি

  বাংলাদেশ: শুক্রবার ১২ আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৩ মহর্‌রম ১৪৪৪ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৭:০৫ পিএম

জরিমানা দিতে না পারায় স্টেশনে নষ্ট হচ্ছে জেলেদের শতাধিক নৌকা

এইনগরে, চাঁদপুর: চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় অভয়াশ্রমকালীন জব্দকৃত শতাধিক জেলে নৌকা চাঁদপুর নৌ থানা ও লঞ্চঘাটের পূর্বদিকে জেটির পাশে এবং কিছু নৌকা কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনে পড়ে আছে। 

এসব নৌকা ইঞ্জিনসহ রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  কিছু কিছু ক্ষেত্রে মালিকানা নির্ধারণ না হওয়া এবং  ছোট ছোট নৌকার মালিকরা ধীরে ধীরে জরিমানা পরিশোধ করতে গিয়ে একটু দেরি হচ্ছে বলে নৌকাগুলো পড়ে রয়েছে। তাছাড়া  মামলা হওয়ায় আলামত হিসেবে অনেক নৌকা পড়ে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। 

অপরদিকে মৎস্যজীবী নেতারা মনে করেন  জেলা টাস্কফোর্স তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রায় একমাস অতিবাহিত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

দেখা যাচ্ছে, এসব অভিযানে জব্দকৃত  বড় নৌকাগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য আড়াই হতে তিন লাখ টাকা। ছোট সাইজের ইঞ্জিনচালিত নৌকার দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা। 

চাঁদপুর কান্ট্রি ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি শাহআলম মল্লিক বলেন, অভিযান চলাকালীন আমরা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলেছি নৌকাগুলো তাৎক্ষণিক নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে। কিন্তু সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন তা করেননি জানি না। যার কারণে কোটি টাকার উপরে মূল্যমানের নৌকাগুলো নষ্ট হচ্ছে। 

এদিকে নৌকাগুলোর মালিক শনাক্ত ছাড়া জরিমানা কিংবা ছাড় দেয়া হয় না। কেননা এসব নৌকা জব্দের সময় মামলা করে জব্দ তালিকা করা হয়। বর্তমানে জব্দকৃত এসব নৌকা নৌ পুলিশের  ও কোস্টগার্ডের  তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

অভয়াশ্রম এলাকার হাইমচর ছাড়া মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও সদর উপজেলায় জব্দকৃত জেলে নৌকা টেন্ডারে বিক্রি হয়নি। যার কারণে জেলেদের জব্দকৃত নৌকাগুলো যেখানেই আছে, সেখানে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। হাইমচর উপজেলায় অভিযানকালে ২৮টি জেলে নৌকা মৎস্য আইনের বিধান অনুযায়ী ১১ লাখ ৪১ হাজার ৮০৫ টাকা তাৎক্ষণিক টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হয়। 

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকি বলেন, জব্দকৃত নৌকাগুলো তাৎক্ষণিক টেন্ডারে বিক্রি হয়নি। তবে এখনো অনেক নৌকার মালিক জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরিমানা দিয়ে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন। আসলে এমন কিছু দরিদ্র অসহায় নৌকার মালিক জেলে রয়েছেন যারা বিভিন্ন এনজিও থেকে কিস্তি তুলে নৌকা কিনেছেন; তারা এখন জরিমানা দিয়ে ধীরে ধীরে নৌকা ছাড়িয়ে নিচ্ছেন। নৌকার  মালিক শনাক্ত না হলে এসব নৌকা সহসাই টেন্ডারে বিক্রি হবে বলে  জানান এই কর্মকর্তা। যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *