বাংলাদেশ: রবিবার ২২ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ২২ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৭:১৫ পিএম

নকল ওষুধের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র মিটফোর্ড

5 / 100

এইনগরে অনলাইন ডেস্ক: নকল ওষুধের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র রাজধানীর মিটফোর্ড। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওষধু নকল করা হলেও মূলত মিটফোর্ড কেন্দ্রিক কতিপয় অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীর নকল করা ওষুধ সারাদেশের ফার্মেসিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদনকারীরা আগে বাজার থেকে চাহিদা পেয়ে থাকেন। বলা হয়- এই ওষুধ তৈরি করে দেন, আমরা বাজারে চালিয়ে দেব। তারপরই নকল ওষুধ উৎপাদন করত চক্রটি।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকা থেকে নকল ওষুধ তৈরি ও সরবরাহকারী চক্রের তিনজনকে গ্রেফতারের পর এমনটি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতাররা হলো- মেডিসিন ওয়ার্ল্ড ফার্মেসির ফয়সাল আহমেদ, লোকনাথ ড্রাগ হাউসের সুমন চন্দ্র মল্লিক ও রাফসান ফার্মেসির লিটন গাজী। তাদের কাছ থেকে অভিযানে আই-পিল, নেপ্রোক্সিন প্লাস ৫০০+২০০ এমজি, বেটনোভেট-সি, প্রোটভিট ২০সহ বিভিন্ন রোগের নকল ওষুধ জব্দ করা হয়।

রবিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মিটফোর্ডে এলাকা থেকে যারা সারা দেশে নকল ওষুধ পাঠাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং সামনের দিনগুলোতেও অভিযান চলমান থাকবে। ইউনানি লাইসেন্স নিয়ে নকল ও অবৈধ ওষুধ তৈরি করছে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠান। এগুলো অনেক সময় বন্ধ থাকে, রাতের আঁধারে কারখানা খুলে কার্যক্রম চালায়। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এ ওষুধ তারা সারাদেশে পাঠিয়ে দেয়। ইউনানি ও হোমিওপ্যাথির লাইসেন্স নিয়ে যারা অবৈধ ওষুধ তৈরি করছে তাদের তালিকা ডিবি তৈরি করেছে। সরবরাহকারী বা উৎপাদনকারী সবাইকে আমরা তালিকাবদ্ধ করছি।

ভেজাল ওষুধ তৈরি বন্ধ কেন করা যাচ্ছে না, এমন প্রশ্নে যুগ্ম কমিশনার বলেন, বন্ধ হচ্ছে না বিষয়টি এমন নয়। এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে।

সব থেকে বড় কথা হচ্ছে জনগণ যে এসব ভেজাল ওষুধ খেয়ে প্রতারিত হচ্ছে, সেখানে জনগণেরও একটি সচেতনতার দায়বদ্ধতা আছে। যেসব দোকানে ওষুধ বিক্রি হয় সেসব দোকানে ওষুধের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বৈধ ওষুধের তালিকা ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পক্ষ থেকে দেয়া থাকে। ওষুধ কিনতে যাওয়ার সময় এসব তালিকা দেখার অধিকার সাধারণ ক্রেতাদের আছে। এছাড়া কোম্পানি ইনভয়েস প্রতিটি ফার্মেসিতে থাকে। ওষুধ বিক্রির সময় কোম্পানিগুলো এই ইনভয়েস ফার্মেসিগুলোকে দেয়। নকল ও ভুয়া ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে ফার্মেসিতে গিয়ে ক্রেতাদের অবশ্যই তালিকাগুলো দেখা উচিত। ইনভয়েস না দেখে ওষুধ কেনা উচিত নয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাঈম গোলদার বলেন, অভিযানে জব্দ করা ওষুধের মধ্যে বেশিরভাগ হচ্ছে রেজিস্ট্রেশন বিহীন ভেজাল ওষুধ। এর মাঝে একটি ওষুধ হচ্ছে পিডিএকটিন যা অনেক আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মানুষ কীভাবে ভেজাল ওষুধ চিনতে পারবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রারকৃত সকল ওষুধের লিস্ট আমাদের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে, সেখান থেকে জনগণ এ বিষয়ে জানতে পারে। আর জনগণকে অবশ্যই ইনভয়েস নম্বর দেখে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হবে। ইনভয়েস নম্বর হলো ওষুধের সার্টিফিকেট। যে কোম্পানি থেকে ওষুধ ক্রয় করা হয় সে কোম্পানির ইনভয়েস ওষুধ ফার্মেসিকে সংরক্ষণ করতে হয়। ভেজাল ওষুধের ক্ষতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নকল ওষুধ সেবন করলে মূল সমস্যা হয় লিভার এবং কিডনিতে। সে কারণে বাংলাদেশে লিভার ও কিডনিজনিত রোগী বাড়ছে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি এ ভেজাল ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *