বাংলাদেশ: বুধবার ২৬ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১২ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: বুধবার ২৬ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৫:৪৯ পিএম

মেজর জেনারেল হলেন কক্সবাজারের সন্তান হামিদুল হক

8 / 100

সুশান্ত পাল বাচ্চু, কক্সবাজারঃ দরিয়াপাড় তথা কক্সবাজারের সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সেনা প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সেনা সদরের চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক কে মেজর জেনারেল এর র‍্যাংক পরিয়ে দেন।

তিনি ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং সিলেটের এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। হামিদুল হকের শ্যালক কক্সবাজার আইন কলেজের শিক্ষক, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


মেজর জেনারেল হামিদুল হক ১৯৭০ সালের ২৩ জুন কক্সবাজার জেলার নতুন উপজেলা ঈদগাঁও জালালাবাদ ইউনিয়নের পালাকাটা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি পালাকাটা গ্রামেই তার শৈশব অতিবাহিত করেন এবং ঈদগাহ মডেল হাই স্কুল হতে এসএসসি পাস করেন। এরপর স্বনামধন্য চট্টগ্রাম কলেজ হতে এইচএসসি পাস করেন। এছাড়া সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর তিনি আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি ও সামরিক বিষয়ে দুইটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি সর্বদাই একজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তিনি ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৯০ সালের ২২ জুন তারিখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইনফ্যান্ট্রি কোরে কমিশন লাভ করেন। চাকরি জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেশনাল স্টাফের দায়িত্বসহ, তিনি তিনটি ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করেন এবং একটি ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট কমান্ড করেন। এছাড়া নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্বরত ২০৩ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। কর্নেল পদবিতে তিনি একটি ইনফেন্ট্রি ডিভিশানের কর্নেল সটাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।ইতোপূর্বে তিনি স্কুল অফ ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস এ ডাইরেক্টিং স্টাফ ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে স্টাফ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এছাড়া তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এ জি এস ও – ১ এবং পরিচালক আইএবি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি গত দেড় বছর যাবত ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত কলেজ সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। মেজর জেনারেল হামিদুল হক সামরিক ও বেসামরিক পরিমণ্ডলে পেশাগত ভাবে একজন অত্যন্ত চৌকস, পেশাদার এবং দক্ষ অফিসার হিসেবে পরিচিত। মেজর জেনারেল হামিদুল হক জাতিসংঘ মিশনে সিয়েরালিওনে ও সুদানের দারফুরে ডেপুটি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি চাকরিজীবনে দেশে-বিদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন ও প্রশংসনীয় মানের ফলাফল অর্জন করেন। দেশের সকল প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কোর্সের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন এবং পাকিস্তানে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে মেজর জেনারেল হামিদুল হক, নুসরাত জাহান মুক্তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তিন পুত্র সন্তানের জনক হন।

উল্লেখ্য, তিনি ঈদগাঁওর বাসিন্দা মরহুম মোহাম্মদ মরতুজা এবং আংগুর আরা বেগমের প্রথম সন্তান। তিনি কক্সবাজার এর বাহারছড়ার বাসিন্দা এডভোকেট হাবিবুর রহমান (প্রাক্তন পাবলিক প্রসিকিউটর) এর মেজ জামাতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *