বাংলাদেশ: রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৫ মহর্‌রম ১৪৪৪ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ১৪ আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৫ মহর্‌রম ১৪৪৪ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৭:০৫ পিএম

যে ফুল বেদনায় লাল হয়ে ফুটে

মনির ইউসুফ: যে ফুল বেদনায় লাল হয়ে ফুটে, সে ফুলের নাম কি? রুক্ষ্ম গাছের হৃদয়ে এমন সৌন্দর্য কোথায় থেকে আসে- বাতাস, পানি আর বৃক্ষদেবীর শিরায় কে ফুটায় এমন মনোহরণীয় নয়নবিধুর ফুল। চৈত্রের দহনে কৃষ্ণচূড়ায় লাল হয়েছে বাংলা।

কি অপূর্ব, কি আশ্চর্য সুন্দর! বাঙলার মাঠ ঘাট, রাস্তায়, ভিটেই এ ফুলের পসরা সেজেছে? এমন রক্তরাঙা, হৃদয়হরা। আমার মন- সুন্দরী এই ফুলের অসহ্য উজ্জ্বল পাপড়িতে ডুবে থাকে। কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ির সঙ্গে বাঙালার শ্যমল রমণীর চোখের ভ্রু’র এত মিল, আমি ফুলের ভ্রু ও তোমার চোখের ভ্রুজুড়ে এক শতাব্দী চেয়ে থাকি। তবুও মিটে না আমার তিয়াসা, এমন পিপাসা আমার বুকে। সুন্দরের জন্য মানুষের তিয়াসা শেষ হয় না।

কিন্তু মানুষ সুন্দরকে খোঁজে পাই না। খোঁজে পেলেও মানুষ ও মানুষী তার কদর বুঝে না। আমার নিঃসঙ্গতার একশো বছর কেটে গেলো ফুলের গন্ধে, লাল টুকটুকে তাজা কৃষ্ণচূড়ার গন্ধে, বাঙলার রমণীয় ফুল তোমার মনোহরণীয় গন্ধ এতো মধু, ভ্রমর গুনগুনিয়ে মরে যায়, কালোভ্রমর গুঞ্জরণ করে বেদনায়-সুখে। তুমি নয়নে নয়ন জুড়াও বলে আমার মন এমন চঞ্চল হয়ে ওঠে।

হে কৃষ্ণচূড়া, হে বেগুনীজারুল, হে চৈত্র আর দহন।

হে কৃষ্ণচূড়া, হে বেগুনীজারুল, হে চৈত্র আর দহন। তোমাদের ডালে পাতার ফাঁকে ফাঁকে কত শালিক আমাকে ডাকে, সকাল বিকাল দুপুর পাখির কাকলি আমাকে মাতাল করে ফেলে। বৈষয়িক এত দুঃখ এত বেদনা এত কষ্ট ভুলে পাখির গান আমার মন ভরে দেয়। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কৃষ্ণচূড়ায় লাল হয়েছে বাংলা। অসহ্য লাল, মাথা গরম করে দেওয়া রক্তাক্ত লাল।চর্যার বাঙলা থেকে আজকের পূণ্যবাঙলার এমন মনো-বিদূর সবুজ-লাল পৃথিবীর কোথাও বুঝি নেই।

আমার হৃদয় এই রক্তদহন আর চৈত্রদহনে মাতোয়ারা-অশান্ত। বাঙলার শ্যমল প্রকৃতির সঙ্গে তাই বুঝি অশান্ত হয়ে ওঠে বাঙলার একমাত্র সাগর, বঙ্গোপসাগর। তাই বঙ্গোপসাগর ফুঁসে ওঠে রাগে, গর্জে ওঠে ঘূর্ণিঝড়ে জলোচ্ছ্বাসে- ভাসিয়ে দেয় সমস্ত সুন্দর। একটি ঝড়োপ্লাবনে মাতাল করে তোলে সমভূমি- বেলাভূমি এই বাঙলার মাটি ও জনপদ। চৈত্র নিয়ে আসে ঘূর্ণিঝড়, আকাশের মেঘের প্রলয়।

ফুলে-ফলে- ফসলে তবুও চৈত্র সুন্দর। আমার বুকে চৈত্রমাস, আমার বুকে ঝড় তোলে এই মধুমাস। মানে পাখি, ফুল, ফল, ফসল, ঘূর্ণিঝড়। কত মনোদহনের- কষ্টের-শোকের- শখের এই মাস। বৈদিক কাল থেকে আম্রপলির ঘ্রাণ ছড়িয়েছে এই বাংলা। দুধআমকলা মিশানো আমভাত আহা, কি তৃপ্তিময়। ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’ আমি বলবো কৃষ্ণচূড়া ফুলের দেশ, জারুল ফুলের দেশ আমার সন্তান যেন থাকে দুধেআমভাতে। কৃষ্ণচূড়ার ডালে বসে যখন বউ কথা কও পাখি ডাকে তখন চৈত্রের এই অসহ্য গরমকেও আমার মনে হয় বেহেশতী হাওয়া।

কৃষ্ণচূড়ায় লাল হয়েছে বাংলা, আর আমার মন লাল হয়েছে রক্তাক্ত হয়েছে এই সুখের অসুখে। তোমার চোখও কি লাল হয় নাই এই বেদনায়। বেদনা ও শূন্যতাজুড়ে ফুটে থাকে আমার হৃদয়, আমার বুকের কৃষ্ণচূড়া।

লেখক: সম্পাদক- কবিতার রাজপথ, কবি, কথাশিল্পী, মুক্তচিন্তক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *