বাংলাদেশ: বুধবার ২৯ জুন ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৯ জিলকদ ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: বুধবার ২৯ জুন ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৯ জিলকদ ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৭:০৫ পিএম

শিল্পকলায় ‘গীতি চন্দ্রাবতী’ মঞ্চস্থ

5 / 100

এইনগরে বিনোদন: বাল্যকালে চন্দ্রাবতীর বন্ধু ও খেলার সাথী ছিল জয়ানন্দ নামের এক অনাথ বালক। কৈশোর উত্তীর্ণ হলে স্থির হয় বিয়ে করবে তারা। ঠিক হয় বিয়ের দিন। এরই মাঝে জয়ানন্দ প্রেমে পড়ে এক মুসলিম নারী, আসমানীর। জয়ানন্দ ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য হয় এবং বিয়ে করে আসমানীকে। যেদিন জয়ানন্দ বিয়ে করে সেদিনই চন্দ্রাবতীর সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা। বধূ সাজে সজ্জিত চন্দ্রাবতী জানতে পারে জয়ানন্দ বিয়ে করেছে অন্যত্র। ব্যথাতুর চন্দ্রাবতী প্রতিজ্ঞা করে কুমারী থেকে শিবের সাধনায় জীবন কাটাবে। পিতার কাছে অনুমতি চাইলে চন্দ্রাবতীকে তিনি পরামর্শ দেন রামায়ণ লেখার। চন্দ্রাবতী শুরু করে শিব স্তুতি ও সাহিত্য সাধনা। এর মাঝে কেটে যায় বেশ কিছুকাল। একসময় জয়ানন্দ উপলব্ধি করে আসমানীর প্রতি তার টান মোহ মাত্র। প্রকৃতপক্ষে চন্দ্রাবতীকেই ভালবাসে সে। বুঝতে পারে ভুল হয়ে গেছে বড়। ভুল শুধরাতে জয়ানন্দ সন্ধ্যার দিকে এসে পৌঁছায় চন্দ্রাবতীর মন্দিরে। চন্দ্রাবতী তখন রুদ্ধদ্বার ধ্যানমগ্ন। জয়ানন্দ মন্দিরের দরজায় এসে ডাকাডাকি করে অনেকবার, কড়াও নাড়ে। কিন্তু ধ্যান ভাঙ্গেনি চন্দ্রাবতীর। ব্যর্থ জয়ানন্দ মন্দিরের দরজায় একটি কবিতা লিখে বিদায় নেয় চিরদিনের মতো। ধ্যান ভাঙলে চন্দ্রাবতী মন্দির পরিষ্কার করার জন্য নদীর ঘাটে যায় জল আনতে। সেখানে গিয়ে দেখে, জয়ানন্দের নিথর দেহ ভাসছে নদীর জলে।

এমনই এক বিয়োগান্তক প্রেমের আখ্যান গীতি চন্দ্রাবতী। সংস্কার নাট্যদলের প্রযোজনাটি রবিবার মঞ্চস্থ হলো শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে। বারো দিনব্যাপী গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবে দশম দিনে নাটকটির প্রদর্শনী হয়। নয়ান চাঁদ ঘোষের রচনা থেকে প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন ইউসুফ হাসান অর্ক। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনামী ইসলাম কনক, বাপ্পী সাইফ, ফাতেমা তুজ জোহরা ইভা, আশিকুর রহমান, নাবা চৌধুরী, খন্দকার রাকিবুল হক, মাসুদ কবির, হুমায়রা তাবাসসুম নদী, রাকিবুল ইসলাম রাসেল, জান্নাত তাসফিয়া বাঁধন, ইগিমি চাকমা, মোস্তফা জামান সৌরভ. উষ্মিতা চৌধুরী প্রমুখ।

এছাড়া গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবের দশম দিনের দর্শকরা উপভোগ করেছেন আরও দুটি নাটক। জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে পরিবেশিত হয় দৃষ্টিপাত নাট্যদলের নাটক ‘সে এক স্বপ্নের রাত’। রচনার পাশাপাশি প্রযোজনাটির নির্দেশনায় ছিলেন ড. খন্দকার তাজমি নূর। স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় কথক নাট্যদলের নাটক ‘নিঃশ্বাস। রোহান নেওয়াজের রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন মোঃ শাহনেওয়াজ।

উৎসবে বিকেলে মুক্তমঞ্চের আয়োজনে পথনাটক পরিবেশন করে উত্তরীয় থিয়েটার। শিশু সংগঠন পরিবেশনা উপস্থাপন করে সন্ধান লিটল থিয়েটার। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন সাম্প্রতিক-ঢাকা। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে পঞ্চভাস্করের শিল্পীদল। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে জিএ মান্নান দিব্য সাংস্কৃতিক সংগঠন। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিমান চন্দ্র বিশ্বাস ও মৌমিতা বড়ুয়া। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন রফিকুল ইসলাম, অনিকেত রাজেশ ও রুবিনা শাহনাজ। সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনের সান্ধ্যকালীন আয়োজনে ‘দেশ ছাড়া ঘর হারা’ শীর্ষক আবৃত্তি প্রযোজনা উপস্থাপন করে বাকশিল্পাঙ্গন। ঋতুরঙ্গ নামের গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী।

রবীন্দ্র-নজরুল প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, নড়াইলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮০তম এবং প্রেম ও বিদ্রোহের অমর কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ৪৬তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তাদের জীবন ও সৃষ্টির ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমি অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টির ওপর নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ রবিউল ইসলাম এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ও সৃষ্টির ওপর নড়াইল আব্দুল হাই ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাহবুবুর রহমান আলোচনা করেন। পরে শিল্পকলা একাডেমি ও বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা সঙ্গীত-কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *