বাংলাদেশ: বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ৫:৫৫ পিএম

সিনহা হত্যাকাণ্ডের ‘প্রত্যক্ষদর্শী’ মসজিদের ইমাম আদালতে যা বললেন

10 / 100

এইনগরে অনলাইন ডেস্ক: চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত সেনাবাহিনীর অব. মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় মঙ্গলবার আরও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।এ মামলার পঞ্চম  সাক্ষী হিসেবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মসজিদের ইমাম  হাফেজ মো. আমিন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

বরখাস্ত ওসি প্রদীপ-লিয়াকতসহ এ মামলার ১৫ আসামীদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার সকাল সোয়া দশটা থেকে বিকেল  পাঁচটা পর্যন্ত চলে আদালতের কার্যক্রম।

এসময় সাক্ষী  হাফেজ মো. আমিন আদালতকে জানান, ঘটনার সময় তিনি পাশের একটি মসজিদ সংযুক্ত মাদ্রাসায় ছাদে ছিলেন। মসজিদ থেকে তল্লাশিচৌকির দূরত্ব ৩০-৪০ কদম উল্লেখ তিনি ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন বলে জানান।

আদালতকে সাক্ষী মো. আমিন বলেছেন, সেদিন রাতে তল্লাশিচৌকির পাশে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে সিনহা মাটিতে (সড়কে) পড়ে ছটফট করছিলেন। প্রাণ বাঁচানোর জন্য পানির জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। লিয়াকত আলী সিনহার দিকে গিয়ে বুকে লাথি মারেন কয়েকবার। পা দিয়ে মাথাও চেপে ধরেন।

এর কিছুক্ষণ পর টেকনাফের দিক থেকে সাদা মাইক্রোবাস নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রদীপ কুমার দাশ (টেকনাফ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)। তখনো সিনহা জীবিত ছিলেন এবং ‘পানি পানি’ করছিলেন। ওসি প্রদীপ তখন লাথি মারেন এবং পা দিয়ে গলা চেপে ধরে সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে মামলার ১৫ আসামিকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।

এদিকে সিনহা হত্যা মামলার ৬ষ্ঠ দিনের বিচারকার্য শুরুতে সরকারি নিয়মনীতির আলোকে আসামি প্রদীপ কুমার দাশ একজন প্রথম শ্রেণির অফিসার হিসেবে কারাগারে যে সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কারাগারে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট রানাদাশ গুপ্ত। আদালত কারাবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশ নামা পাঠানো হবে বলে উল্লেখ করেন। 

অন্যদিকে আসামি পক্ষের অপর এক আইনজীবী ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছিল তা তলবের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে দেন।  

এ সময় সরকারি কৌশলী তার বিরোধীতা করে বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় নথি। এটি এই মামলায় এই মুহূর্তে উপস্থাপন করার প্রয়োজন নেই।  এর পরপরই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাফেজ মো. আমিনের জবানবন্দি রেকর্ড শুরু করেন আদালত। 

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন,  হাফেজ মো. আমিনের সাক্ষ্যের গুরুত্ব অত্যাধিক। কারণ হাফেজ মো. আমিন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তাই সিনহার সফরসঙ্গী সিফাতের মতো হাফেজ আমিনের জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

আদালত সূত্র জানায়,দ্বিতীয় দফার ৩য় দিনের জন্য হাফেজ মো. আমিন, শওকত আলী ও সাইফুল আবছার আবুইয়ার সাক্ষ্যের হাজিরা দেওয়া হয়। প্রথম দিন ৬ জনের এবং দ্বিতীয় দিনে ৩ জনের হাজিরা দেওয়া হলেও মাত্র একজন করেই সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এরপরও দ্রুততায় সম্পন্ন হবার আশায় আজকেও তিনজনের হাজিরা দেওয়া হয়েছিল।

পিপি ফরিদুল আলম বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা থাকে হাজির সবার সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করার। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের অসহযোগিতাই তা সম্ভব হয় না। তারা সাক্ষীকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করেন। আর ১৫ আসামির ১৫ আইনজীবী আলাদাভাবে আধাঘন্টা করে জেরার সময় নিয়ে সাড়ে সাত ঘন্টা সময় লাগে। জবানবন্দি নিতেও সময় লাগে ঘন্টা দেড়েক। এতে আদালতের কর্মঘন্টা ৯ ঘন্টা এবং মধ্যহ্ন বিরতিসহ দাঁড়ায় ১০ ঘন্টা। ফলে একজনের বেশি সাক্ষী গ্রহণ সম্ভব হয়ে উঠছে না।

গত ২৩ আগস্ট শুরু হয় মেজর সিনহা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম। সাক্ষ্যগ্রহণে আদালতের নির্ধারণ করা প্রথম তিনদিনের প্রথমদিন পুরো ও দ্বিতীয় দিনের অর্ধেক সময় মামলার বাদি নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন ফেরদৌসের সাক্ষ্য ও জেরা হয়। পরে শুরু হয় সিনহার সফরসঙ্গী ও হত্যার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী সিফাতের সাক্ষ্য। এ দুজনের সাক্ষ্য ও জেরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিচার কার্যের প্রথম নির্ধারিত তিনদিন।

ফলে এ তিনদিনের জন্য নোটিশ পাওয়া ১৫ সাক্ষীর মাঝে বাকি ১৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২৫ আগস্ট আদালত ৫ থেকে ৮ সেপ্টম্বর টানা চারদিন পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য্য করেন। সেই মতে গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাকি সাক্ষীদের একজনের সাক্ষ্য শুরু হয়ে সারাদিন তাকেই জেরায় দিন শেষ হয়। দ্বিতীয় দিনও একইভাবে একজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা হয়েছে। মামলায় মোট সাক্ষী ৮৩ জন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার- টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *